Posts

ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্রঐক্য ও প্রাসঙ্গিক সমালোচনা

গত ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ইং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বে ১৫ টি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে একটি নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্রঐক্য। এই জোটভুক্ত ১৫ টি সংগঠন হলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন (সাকি), ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রলীগ (জেএসডি), গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি), নাগরিক ছাত্র ঐক্য (মান্না), জাগপা ছাত্রলীগ, ছাত্র ফোরাম (মন্টু), ভাসানী ছাত্র পরিষদ, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর), জাতীয় ছাত্র সমাজ (পার্থ), জাগপা ছাত্রলীগ (খন্দকার লুৎফর), ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এই জোটের সমন্বয়ক করা হয়েছে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান রিচার্ড ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান আদীবকে। পাশাপাশি জোটভুক্ত সকল সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। আর এই জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। যদিও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সরকা...

ছাত্রলীগ ভাবনা ও একটি প্রস্তাব

Image
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুপ্রশিক্ষিত একাধিক স্বেচ্ছাসেবক টিম থাকা এখন সময়ের প্রয়োজন। পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ১৪ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ছাত্রলীগ আজ ৫০ লক্ষ নেতা-কর্মীর সুবিশাল পরিবার। শুধু দেশের নয়, সমগ্র উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন। এই ছাত্রলীগ এখন শুধু শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দাবী আদায়েই কাজ করে না। প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছরে এর পরিধি যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে এর কর্মক্ষেত্রও। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই ছাত্রলীগ কাজ করছে গণমানুষের জন্যও। দেশের বিভিন্ন দূর্যোগে-দূর্ভোগে-দুর্বিপাকে সবার আগে এগিয়ে এসেছে বারবার। আমরা দেখেছি, করোনা মহামারিতে যখন পিতার লাশ ফেলে সন্তানেরা পালিয়ে গেছে তখন সেই লাশ দাফন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সমগ্র মহামারিজুড়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছে। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে বিতরণ করেছে, খাবার, ওষুধ ও অক্সিজেন সেবা প্রদান করেছে বিনামূল্যে। সম্প্রতি সিলেটের ভয়াবহ বন্যা, সিদ্দিকবাজারের বিস্ফোরণ ও বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডে যে কয়েকটি সংগঠন সর্বাগ্রে এগিয়ে এসে ক্ষতিগ্রস্তদের জান-মাল রক্ষায় সহায়তা করেছে বাংলাদেশ ছাত্র...

পদ্মা সেতু যেভাবে আমাদের আবেগে পরিণত হয়েছিলো

Image
আমরা কেনো পদ্মা সেতুর ছবি-ভিডিও-নিউজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার বার শেয়ার করি জানেন?  আমি আমার বেড়ে ওঠার পুরো সময় জুড়ে দেখেছি, আমার চারপাশের একদল মৌলবাদী মিছিলে স্লোগানের নামে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালাগালি করতো। তাদের গালাগালি থেকে রেহাই পায় নি স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও। হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকে যেখানেই রাজনৈতিক আলাপ শুনতাম সেখানেই দাঁড়িয়ে যেতাম। পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক শুনতাম। আওয়ামী লীগের পক্ষে যারা তর্ক করতো তারা বিভিন্ন কারণে তর্কে এগিয়েই থাকতো সব সময়। কিন্তু তারা সকলেই তর্কে খেই হারিয়ে ফেলতো যখন পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ আসতো, সৈয়দ আবুল হোসেনকে যোগাযোগ মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের প্রসঙ্গ আসতো। বিএনপি-জামাতপন্থী অনেকেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার প্রসঙ্গ এনে অট্টহাসি হাসতো এবং বলতো, পদ্মা সেতু জীবনেও হবে না। তারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে হাসাহাসি করতো। দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে কথাগুলো হজম করা ছাড়া তখন কিছুই করার ছিলো না। বয়সে তখন খুবই ছোটো ছিলাম। তর্কের প্রতিত্তোরে তর্ক করার মতো বয়স বা সাহস কোনোটাই ছিলো না। আর তর্ক করার মতো তথ্যের চর্চাও তখনও করতে শিখি নি। আব্বাকে এক...

একাত্তর টিভির প্রতি বিদ্বেষ কি শুধু ধর্মীয় কারণেই?

Image
নাস্তিকরা নাস্তিকতার নামে ইসলাম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর নামে প্রতিনিয়ত কটুক্তি করে চলেছে। বাংলার ঘরে ঘরে ভারতীয় নাটকের বদৌলতে ছায়া মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যেখানে পূজার সময় পূজা, দোলের সময় দোল অথবা ভাই ফোঁটার সময় ভাইফোঁটা উপস্থাপন করা হয় শৈল্পিকভাবে (কারও কারও মতে)। আমাদের মা-বোনেরাও তা গোগ্রাসে গিলছে। আবাসিক মাদ্রাসার হুজুরেরা প্রায়ই ছাত্র-ছাত্রীদের ভয় দেখিয়ে মেতে উঠছে বলাৎকার উৎসবে। আন্দোলনের নামে আমাদের সমাজেরই কিছু বিপথগামী তরুণ-তরুণী জনসম্মুখে চুমাচুমির প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। সমকামীতা ও লিভ টুগেদারকে বৈধতা দেওয়ার জন্য সমাজের একাংশ দাবী জানাচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। বিয়ের শর্তে সেক্স এখন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। নামাজের জন্য মসজিদের ২ কাতারও পূরণ হয় না, অথচ এশিয়ার সর্ববৃহৎ পতিতালয় আমাদের দেশে। বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্ণ ভিউ হয় বাংলাদেশ থেকে। মাঝে মাঝেই এদেশে শুরু হয় ধর্ষণের বসন্তকাল।  ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে এসব নৈতিক ও ধর্মীয় অধঃপতনের চরম পর্যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ রকম সংবাদ প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের বেশিরভাগ ধমপ্রাণ মানুষই এসবের সমালোচনা ...

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নয়, চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিন

Image
কয়েক মাস ধরে লক্ষ্য করছি, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার অভাবে ও হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিঃসন্দেহে এর প্রধান কারণ করোনা পরিস্থিতি; যা শুধু চিকিৎসা খাতেই নয়, বরং বিশ্বের সকল কর্মকাণ্ডেই সৃষ্টি করেছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আমাদের দেশের অতি বাণিজ্যিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও অধিকাংশ চিকিৎসকদের 'নিজে বাঁচলে বাপের নাম' নীতির অবলম্বন । যার কারণে এখন মৃত্যুই হয়ে উঠেছে খুব সাধারণ ও নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার, প্রিয় মাতৃভূমি হয়ে উঠছে অচেনা মৃত্যুপুরী। একদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, অপর দিকে করোনা সন্দেহে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু - সমানুপাতিকভাবে বেড়ে চলেছে উভয় মৃত্যুর হার। বর্তমাম সময়ে একজন অসুস্থ রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে রোগী কি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছে তা জানতে চাওয়ার আগেই তার কাছে চাওয়া হয় করোনা নেগেটিভ থাকার রিপোর্ট। তার করোনার উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক; সে হার্টের রোগী হোক, ক্যান্সারের রোগী হোক বা মানসিক রোগীই হোক তার কাছে রিপোর্ট চাওয়া হবেই। এরপর যা হওয়ার তাই হচ্ছে। সবাই তো আর করোনা টেস্ট করে নেগেটিভ রিপোর্ট...

ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটি, নগ্ন রাজনীতি ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

Image
আজ সেই কলঙ্কিত ১৩ ই মে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিকট অতিত ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনা ও লজ্জার দিন, ভাইয়ের হাতে বোনের রক্ত ঝড়ার দিন, লাঞ্চিত হওয়ার দিন। অথচ এই দিনটিতেই হতে পারতো ছাত্রলীগের সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রার সূচনা, এই দিনটিতেই সিন্ধু সেচে খুঁজে আনা যেতো আগামীর জন্য একঝাঁক মুজিবাদর্শের পতাকাবাহক।  দিনটির শুরু হয়েছিলো আর দশটি দিনের মতোই সাধারণভাবে। কিন্তু তার পেছনেও একটি ঘটনাবহুল রাজনৈতিক অতিত ছিলো। সেদিনের ঠিক ১ বছর আগে অর্থাৎ এখন থেকে ২ বছর আগের এই দিনটিতেই হয়েছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন। নিয়মানুযায়ী সেই দিনের অধিবেশন থেকে ছাত্রলীগের পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সেদিন শীর্ষ দুই নেতার নাম ঘোষণা করা হয় নি। কেননা বঙ্গবন্ধু কন্যা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো যে, ছাত্রলীগের আগামীর নেতৃত্ব তিনিই নির্বাচন করবেন। সারা দেশ থেকে আগত লক্ষাধিক নেতা-কর্মী এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। এরপর শুরু হয় নতুন নেতা নির্বাচনের নানা প্রক্রিয়া। অবশেষে রাজনীতির বিভিন্ন মারপ্যা...

প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতি আমাদের কি বার্তা দিলো?

Image
সবাই ইতোমধ্যে জেনে গেছেন যে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সহ-সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতি করে ধরা খেয়েছে এবং জেলেও গেছে। অধমটার নাম তরিকুল ইসলাম মুমিন। ও যে অপরাধ করেছে তা নিঃসন্দেহে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেননা একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের ওপর দেশের অনেক কিছুই নির্ভর করে। স্বাভাবিক ভাবেই সে তার অপরাধের জন্য আইনগত শাস্তি ভোগ করা শুরু করেছে। তাই আমি এ ব্যাপারে বিশেষ কিছু বলতে চাই না। তবে এ প্রেক্ষাপটে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার বলার মতো কিছু কথা আছে। এ অপরাধটা যদি বাঁশের কেল্লার অ্যাডমিন, শিবিরের ক্যাডার, ছাত্রদলের গা ঢাকা দেওয়া নেতা বা কোনো পেশাদার অপরাধী করতো তাহলে বিষয়টা এতোটা আলোচিত হতো না। কিন্তু এখন আলোচিত হচ্ছে; যার বেশ যৌক্তিক কারণও আছে। ভেবে দেখুন, ছেলেটা কে? ও বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি; যেই পদে থেকে একটু চেষ্টা করলেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার পাশ সংগ্রহ করা সম্ভব, গণভবনে ঢোকা সম্ভব। এটি সহজেই অনুমান যোগ্য যে, যে ব্যক্তি নিজের স্বার্থের কারণে সুযোগমতো প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতি করতে পারে সে তো সুযোগ পেলে...